
মেগালোম্যানিয়াক। দাম্ভিক। যা নয়, তাই ভাবে নিজেকে। কথা কি বলে, কি করে, কি করে ঠিক ঠিকানা নেই। সুকুমার রায়ের ‘আবোল তাবোল’ বলার দাড়িপাল্লাতেও ওকে ফেলা মুশকিল। কারণ ওখানেও ওজন বলে একটা ইয়ে মানে এক মানদন্ড। সেটাও নেই। তাই, ও ট্যাকো। ট্রাম্প অলওয়েজ চিকেন আউট। ভীতু পশ্চাদমুখী। সাহস দেখানোর ভান করে। বলেও ফেলে। আবার ভয়ে পিছিয়ে যায়। চিকেন আউট। ওকে তাড়াতে অবার জোট বাঁধছে আমেরিকার মানুষ। স্লোগান উঠেছে ‘নো কিংস’। পথে লাখ লাখ মানুষ। নানা কিসিমের পুতুল বানিয়ে উন্মাদ ট্রাম্পকে সপাটে মারছে লোকজন। ক্ষোভের প্রতীকি প্রকাশ। বিরোধী ডেমোক্র্যাট দল তো বটেই নিজের দল রিপাবলিকান
পার্টির মধ্যে চলছে র্চচা। আপদ-বিদেয় হোক। এই লোকটিই মেক আমেরিকা গ্রেট এগেন-মাগো স্লোগান দিয়ে ভোটের আগে দুই শূন্য পঁচিশ সালে সাতচল্লিশতম প্রেসিডেন্ট পদে বসেও গেছে। এক বছর যেতে না যেতেই ওর নখ দাঁত বেরুতে শুরু করেছে। ফাঁস হয়েছে যৌন কেলেঙ্কারির কুখ্যাত র্যাকেটিয়ার এপস্টেইনের সাথে এর গোপন সম্পর্কের কথা। সেই সূত্রেই ইসরায়েলের আরেক পিশাচ নেতেনিয়াহর সাথে ওর ওঠাবসা। গত বছর জুন মাসে ইরানের ওপর হামলে পড়েছিল ট্রাম্প। ইরান নাকি পরমাণু অস্ত্র বানাচ্ছে। অজুহাত ওটাই। বারো দিন যুদ্ধ চালিয়েও সে অস্ত্রের হদিশ মিলেনি। মার্কিন সমর বিশেষজ্ঞরাই বলছেন না, কোন পরমাণু তেজস্ক্রিয়তার প্রমাণ নেই। এরপর ভেনেজুয়েলার ওপর হামলা। প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তাঁর স্ত্রী শুদ্ধ গ্রেপ্তার করে আমেরিকায় নিয়ে আসে ট্রাম্প। এভাবেই পর দেশে হামলার নতুন অধ্যায় শুরু করে যুদ্ধবাজ ট্রাম্প। ২০২৬ এর জানুয়ারি মাসে। এখন ট্রাম্পই ভেনেজুয়েলার তেল গ্যাস বেচছে বিভিন্ন দেশে। এক মাসের মাথায় আঠাশ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরু। নেতানিয়ায় আর ট্রাম্প মিলে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লা খামেনেইকে হত্যা করলো। মেয়েদের একটি স্কুলে হামলা চালিয়ে একশো ষাটজন পড়ুয়াকে খতম করলো ওরা। সেই থেকে যুদ্ধবাজদের রক্তের স্বাদ আর মিটছে না। ট্রাম্প নিজেকে রক্তখেকো রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। আর তাতেই ক্ষিপ্ত মার্কিন নাগরিকরা। নো কিংস আওয়াজ তুলেছেন ওরা। এই প্রথম রাস্তায় নেমেছে লক্ষ লক্ষ মার্কিন নাগরিক। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য এডভাসমেন্ট অব কালারড পিপল-এন এ এ সি পি দাবি তুলেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরিয়ে দিতে হবে। সংস্থাটি গঠনের পর এই প্রথম দাবি তুললো এনএএসিপি। ১১৭ সালের মধ্যে এবারই এমন দাবি জানালো সংগঠন। এর প্রেসিডেন্ট ডেরিক জনসন বলেছেন ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট’র অযোগ্য, অসুস্থ, উন্মাদ। যখন সর্বোচ্চ পদাধিকারী এমন আচরণ করেন, অসত্য বলেন, তখন তা জাতির স্থিতিশীলতা জনকল্যাণ উপেক্ষিত হয়, গোটা জাতির জন্য ভয়ঙ্কর বিপদ হয়ে দাঁড়ায়। তাই ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আর সহ্য করা যাচ্ছে না। সংবিধানের ২৫তম সংশোধন এই ধরনের উন্মাদ অসুস্থ ব্যক্তিকে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হোক।’ ট্রাম্প ভাল করেই। জানেন ডেরিক জনসনের ওই বক্তব্যের পেছনে রয়েছে লক্ষ কোটি কৃষ্ণাঙ্গ মার্কিনী নাগরিকের ভাবনা যা মোকাবিলা করা যথেষ্ঠ কঠিন। নভেম্বরেই সিনেট নির্বাচন। চলতি হাওয়া যদি বইতেই থাকে তবে ট্রাম্পকে বিপাকে পড়তে হবে। ভয় তার আগে যদি ইমপিচমেন্ট আসে। মন্ত্রিসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যকে নিয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যানস্ সংবিধানের ২৫তম সংশোধনের খড়গ চালায়। যে বিধানে অসুস্থ উন্মাদ ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরানোর ক্ষমতা তুলে দেওয়া হয়েছে মন্ত্রিসভার সংখ্যাগরিষ্ঠদের হাতে। তাহলে? সেজন্যই ইরানের সভ্যতাকে গুঁড়িয়ে দিয়ে দেশটিকে প্রস্তর যুগে ঠেলে দেওয়ার ইমকি দিয়েও যুদ্ধ বিরতির ঘোষণা দিতে বাধ্য হয়েছেন ট্রাম্প। তিনি নিজেই প্রমাণ করেছেন-ট্রাম্প অলওয়েজ চিকেন আউট।

